মুরগি পালন করে সাদিকের স্বাবলম্বিতা অর্জনের গল্প : আলমগীর হোসেন শিশির
মুরগি পালন করে সাদিকের স্বাবলম্বিতা অর্জনের গল্প
গ্রামের ছেলে সাদিকের জীবন দারিদ্র্যের ঘেরাটোপে বন্দী ছিল। সামান্য কৃষিজমি আর দিনমজুরি দিয়ে তার পরিবারকে ভালোভাবে খাওয়ানোই ছিল কঠিন। একদিন গ্রামের একটি সভায় মুরগি পালন নিয়ে আলোচনা শুনে সাদিক অনুপ্রাণিত হয়। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সে শুরু করে তার মুরগি পালনের যাত্রা। প্রথমে ১০টি দেশি মুরগি কিনে ছোট্ট একটি শেড বানিয়ে রাখে।
প্রথম কয়েক মাসে মুরগিগুলো ডিম দিতে শুরু করে। ডিম বিক্রি করে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতে লাগল। এই টাকায় সাদিক মুরগির খাদ্য কিনে তাদের আরও ভালো যত্ন নিতে শুরু করল। ধীরে ধীরে তার মুরগির সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছায়। ডিম ছাড়াও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি শুরু করে সে।
বছরখানেকের মধ্যে সাদিক শুধু নিজের খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অন্য গ্রামবাসীদের মুরগি পালনে উৎসাহিত করতে শুরু করল। আজ তার খামারে ২০০টি মুরগি আছে, আর তার মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকার বেশি। পরিবারে এসেছে আর্থিক স্থিতি।
সাদিক এখন শুধু নিজের দারিদ্র্যই দূর করেনি, বরং গ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে যে কেউ মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারে।
- আলমগীর হোসেন শিশির

কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন