Header Ads

দুধের দাম কমেছে, খামারিরা দিশেহারা — মাঠে ঘাটে ছড়িয়ে পড়েছে হতাশার গন্ধ

 দুধের দাম কমেছে, খামারিরা দিশেহারা — মাঠে ঘাটে ছড়িয়ে পড়েছে হতাশার গন্ধ







✍️ কৃষি রিপোর্ট | সিরাজগঞ্জ থেকে : দুধের দামে লিটারপ্রতি মাত্র ৫ টাকা কাটা পড়েছে। সংখ্যার হিসেবে অল্পই মনে হতে পারে, কিন্তু এই পাঁচ টাকাই বদলে দিচ্ছে অনেক খামারির ভাগ্যরেখা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর — যে অঞ্চল এক সময় গরুর খামারের জন্য পরিচিত ছিল, এখন সেখানে খামারিদের চোখেমুখে কেবল চিন্তা আর অনিশ্চয়তা। মিল্ক ভিটা, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সমবায় ভিত্তিক দুগ্ধপ্রতিষ্ঠান, ১ মে থেকে দুধের দাম কমিয়ে দিয়েছে। আগে যে দুধ ৫৩-৫৫ টাকা লিটার দরে কিনতো, এখন সেই দুধ ৪৮-৫০ টাকায় কিনছে। অথচ বাজারে দুধের দাম এক বিন্দুও কমেনি। মিল্ক ভিটা ডিলারদের কাছে দুধ বিক্রি করছে ৮৬ টাকায় লিটারপ্রতি, পাইকারি দরে তা হচ্ছে ৯১ টাকা আর খুচরায় পৌঁছাতে তা ১০০ টাকা! শাহজাদপুরে গড়ে ওঠা কয়েক শত খামারে এখন গরুর গা ধুয়ে দুধ দোয়াতে গিয়ে প্রতিদিন লোকসান গুনছেন খামারিরা। খামারিরা বলছেন, খাদ্য, ওষুধ, ভ্যাকসিন, শ্রমিকের মজুরি— সব খরচ বেড়ে গেছে। এই মুহূর্তে যদি দুধের দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। দক্ষিণ বাঙলাপাড়া দুগ্ধ সমবায় সমিতির সদস্য আব্দুল করিম সরদার বললেন, “দুধের দামে লাভ তো দূরের কথা, এখন খরচই উঠে না। গরু পালন কষ্টকর হয়ে গেছে। মিল্ক ভিটা ৪৮ টাকা দেয়, আর আমরা দুধ বিক্রি করতে পারি না স্বাধীনভাবে। বাধ্য হয়ে দিতে হয়।” একই সুর রেশমবাড়ি পূর্বপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি রায়হান উদ্দিনের কণ্ঠে, “আমার সমিতিতে দুই শতাধিক সদস্য। সবাই লোকসানে আছি। দুধের দাম কমেছে, অথচ খরচ বাড়ছেই। পরিবার চালানোই দায় হয়ে গেছে।” অন্যদিকে রেশমবাড়ি সমিতির আরেক সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হক জানালেন, “মিল্ক ভিটা ৬০ টাকায় দুধ কিনত একসময়। এখন কোনো ঘোষণা ছাড়াই দুধ কেনা বন্ধ করে দেয়। ফলে ৩৫ টাকায় বিক্রি করতে হয় লোকাল বাজারে। আরেক পাশে গোখাদ্য, খোরাক— সবকিছুর দাম বাড়ছে।” এখন প্রশ্ন উঠছে— তাহলে মিল্ক ভিটা কেন দুধের দাম কমালো? প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মনির জানান, “এটি একটি ব্যবসা। আগে দুধের দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এখন পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ায় আগের দামে ফেরা হয়েছে।” তবে এখানেই উঠছে বিতর্ক। এই ‘স্বাভাবিক পরিবেশ’ আদতে কাদের জন্য? খামারিদের জন্য, নাকি শহুরে বাজারের মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য? শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বিল্লাল হোসেন মনে করেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল না থেকে খামারিরা নিজেদের উদ্যোগে ছোট ছোট প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলুক। তাহলে মিল্ক ভিটার দয়ায় বাঁচতে হবে না।” প্রশ্নটা এখানেই— কীভাবে একদা সচ্ছল জীবন কাটানো খামারিরা আজকে দুধের মূল্য শুনে মুখ লুকান? তাদের চোখের দৃষ্টিতে আজ শুধু ভোরের নয়, অস্পষ্ট ভবিষ্যতের ছায়াও ঘনিয়ে এসেছে। হুহু করে খাদ্যের দাম।দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধিরকারণেকমছে গরুর চারণ ভূমি। কমছে ঘাসের জমি। এই মুহুর্ত্বে গবাদিপুশর খামার করে টিকে থাকা খু কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে ।

❤️ লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করার অনুরোধ: 👍 লাইক দিন যদি আপনি বিশ্বাস করেন প্রশাসনের সাহসী সিদ্ধান্ত দুর্নীতি রোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে 💬 কমেন্টে জানান—আপনার এলাকাতেও কি এমন অনিয়মের অভিজ্ঞতা আছে? 🔄 শেয়ার করুন যাতে অন্যরাও সচেতন হতে পারে এই ঘটনার বিষয়ে ✅ Agriculture TV ফলো করুন প্রতিদিন সঠিক কৃষি তথ্য ও গণসচেতনতার খবর পেতে ▶️ আরও কৃষি বিষয়ক ভিডিও দেখতে চাইলে: 📌 সাবস্ক্রাইব করুন ইউটিউব চ্যানেল Agriculture TV 🔔 বেল আইকনে ক্লিক করুন নতুন তথ্য পেতে 📎 লিংক: 👉 youtube. com / @AgricultureTV


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.