একটি গাভী থেকে সফল খামারি রফিকুল-শিউলী দম্পতি
একটি গাভী থেকে সফল খামারি রফিকুল-শিউলী দম্পতি
অভাবের সংসারে দেড় বছরের ব্যবধানে জন্ম নেয় ২ সন্তান। তাদের নিজস্ব দুধের চাহিদা মেটাতে ঋণ নিয়ে একটি গাভী কেনেন রফিকুল-শিউলী দম্পতি। ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন করায় ২০১৬ সালে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা জয়িতার সম্মাননা পেয়েছেন শিউলী আক্তার।
রফিকুল-শিউলীর বড় ছেলে তরিকুল বালিয়াকান্দি সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র, আর ছোট ছেলে তৌহিদুল বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বালিয়াকান্দি-জামালপুর সড়কের শ্রীরামপুর বাজার থেকে হেরিংবন্ড সড়ক ধরে দক্ষিণদিকে গিয়ে কিছুদূরে তাদের বাড়ি অবস্থিত।
বাড়ির প্রবেশপথের ডান পাশে রয়েছে বসবাসের ঘর এবং পাশেই প্রায় ১০ শতাংশ জায়গায় নির্মিত একটি গোয়ালঘর। ইটের গাঁথুনির প্রাচীর, লোহার তারের জালিতে বায়ু চলাচল, টিনের ছাদ এবং পাকা মেঝে এ গোয়ালঘরটিকে করেছে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন। গোয়ালঘরে ফ্যান এবং জেনারেটর রয়েছে। ‘এল’ আকৃতির ঘরের একপাশে বাছুর রাখার জন্য আলাদা জায়গা করা হয়েছে।
১৯৯৮ সালে বিয়ে হয় রফিকুল ও শিউলীর। চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় রফিকুল। শুরুতে কৃষিকাজ দেখাশোনা করলেও পারিবারিক কষ্টের কারণে আলাদা সংসার গড়েন। রফিকুল ইসলাম জানালেন, “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গাভী পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ১২ হাজার টাকা ঋণ এবং নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে ১৮ হাজার টাকায় পাশের গ্রাম থেকে বাছুরসহ একটি গাভী কিনেছিলাম।”
প্রথম গাভীটা ছিল কিছুটা রোগা। স্বামী-স্ত্রী মিলে যত্ন নেওয়ায় গাভীর স্বাস্থ্য ভালো হয়ে বাচ্চা দেয়। পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং গরুর সংখ্যাও বাড়ে। প্রথমে গোয়ালঘর তৈরির জন্য টাকার অভাব ছিল, পলিথিন দিয়ে ঘিরে রাখা শুরু করেন। ধীরে ধীরে গোয়ালঘর পাকা ও টিনের করে উন্নত করেন। বর্তমানে গোয়ালঘরের পেছনে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।
রফিকুল বলেন, “খামারের পাশাপাশি চাষাবাদও করি। সাধারণত ২০টি গরু রাখি, বেশি হলে বিক্রি করি। সকাল-বিকেল দুজনেই খামারে সময় দিই। ঘাস কাটার জন্য একজন স্থায়ী শ্রমিক এবং প্রয়োজনমত অন্যান্য শ্রমিক নিয়োগ দিই।”
বর্তমানে তারা গড়ে প্রতিদিন ৫৮ টাকায় ২০০ লিটার দুধ বিক্রি করেন। রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও কুষ্টিয়া, মাগুরা, যশোর থেকে গাভী কিনে বাড়িতে লালন-পালন করেন এবং পরে বিক্রি করেন। এ বছর তারা ৬টি গাভী বিক্রি করে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আয় করেছেন, যার অর্ধেক দিয়ে জমি কিনেছেন।
তাদের বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ২ একর জমি এবং গোয়ালের গরুর মূল্য প্রায় ৪৫-৫০ লাখ টাকা। শিউলী আক্তার বলেন, “নিজের সন্তানদের মতো গরু লালন করি, গরু কেনার আগে তাদের খোঁজখবর নেই।”
রফিকুল-শিউলীর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই গ্রামের গৃহবধূ সেলিনা খাতুনও খামার করছেন। তার ৫টি গাভী ও ৩টি বাছুর রয়েছে। আব্দুল খালেক, যিনি প্রায় ৫ বছর আগে তাদের খামারে কাজ করতেন, এখন নিজের ৮টি গাভী দিয়ে প্রতিদিন ৭০ লিটার দুধ উৎপাদন করেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মানবেন্দ্র মজুমদার বলেন, “রফিকুল-শিউলী দম্পতি অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তারা আমাদের উপজেলার দুগ্ধ খামারের রোল মডেল।”
আপনি কি গরু পালন শুরু করার কথা ভাবছেন?
রফিকুল-শিউলীর সফলতা আপনাকে কতটা অনুপ্রাণিত করল?
👇 আপনার মতামত কমেন্টে জানান
❤️ লাইক করুন
🔁 শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
👥 ফলো করুন Agriculture TV পেজ
#SuccessStory #DairyFarming #LivestockFarming #AgricultureTV #Baliakandi #GMKader #Inspiration #BangladeshFarming

কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন