Header Ads

একটি গরু থেকে শুরু, এখন শতাধিক – ঈশ্বরদীর আমিরুলের খামারে দুধে-ঘি’তে সাফল্য

 

একটি গরু থেকে শুরু, এখন শতাধিক – ঈশ্বরদীর আমিরুলের খামারে দুধে-ঘি’তে সাফল্য

পাবনা, ঈশ্বরদী (৩১ মে) – একসময় যাঁর জীবনে ছিল দারিদ্র্য, ক্ষতির হতাশা আর সংসারের বোঝা, তিনিই আজ জেলার অন্যতম সফল খামারি। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লখিকুন্দা ইউনিয়নের চরাঞ্চল বুরামপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান আমিরুল ইসলাম—যিনি গবাদিপশু পালন করে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য, বদলে দিয়েছেন পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।

১৯৯০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর বাবার মৃত্যু আমিরুলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে জমিজমা থাকলেও, চাষাবাদ করে তিনি সফল হতে পারেননি। একপর্যায়ে গবাদি পশু বিক্রি করে দিতে হয়। সবজি আবাদ করেও ছিল না আশানুরূপ লাভ।

তবে হাল ছাড়েননি তিনি। ১৯৯৪ সালে মাত্র ১৪ হাজার টাকা দিয়ে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে একটি শংকর জাতের গরু কিনে গবাদিপশু পালনের যাত্রা শুরু করেন। চরের জমিতে ফেলে দেওয়া সবজি দিয়েই গরুকে খাওয়ানো হতো। সেই গরুটি তিনটি বাছুর দেয়, এর মধ্যে দুটি ছিল গাভী। তখন থেকেই বাড়ির উঠানে শুরু হয় ছোট পরিসরের গরু পালন।

দশ বছরের মধ্যে আমিরুলের খামারে কয়েক ডজন গরু হয়ে যায়। লাভজনক হওয়ায় তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে খামার বড় করতে থাকেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে শতাধিক গবাদিপশু। প্রতিদিন সংগ্রহ করছেন ৪০০ থেকে ৫০০ লিটার দুধ, যা সরবরাহ করা হচ্ছে মিল্কভিটায়। এমনকি তার খামারের জন্য ঈশ্বরদী অঞ্চলে মিল্কভিটার একটি চিলিং সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে।

আমিরুলের সফলতা দেখে আশপাশের গ্রামগুলোতেও গড়ে উঠেছে শতাধিক গরুর খামার। এসব খামার থেকে প্রতিদিন ১,৫০০ থেকে ২,০০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। পদ্মা নদীর চর এখন দুগ্ধ সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।





এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আমিরুল পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদক (ডেইরি) এবং ২০২১ সালে “ডেইরি আইকন” খেতাব। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন বলেন, “ডেইরি খামারি আমিরুল দেশের বাণিজ্যিক খামারিদের মধ্যে অন্যতম সফল উদাহরণ। তিনি একটি এলাকা পরিবর্তন করে দিয়েছেন।”

আমিরুল জানান, একসময় খামারে ১৫০টির মতো গরু ছিল, সম্প্রতি বিক্রি করা হয়েছে ৪০টি। প্রতি বছর খামার থেকে গড়ে ২০-২৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন দুধ বিক্রি থেকে আসছে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা।

তবে শুধু দুধ বা মাংস নয়—খামার থেকে উৎপন্ন পয়ঃবর্জ্য দিয়ে তিনি স্থাপন করেছেন বায়োগ্যাস প্লান্ট, যা দিয়ে নিজের পরিবারের রান্নার জ্বালানি মেটানো হয়। সেই বর্জ্য থেকে তৈরি জৈব সারও ব্যবহার করেন নিজস্ব জমিতে।

আমিরুল বলেন, “আমি যদি একা এতটুকু করতে পারি, তাহলে সরকার একটু সহায়তা দিলে পুরো চর অঞ্চল বদলে যেতে পারে। আমি চাই বড় পরিসরে বায়োগ্যাস প্লান্ট ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে। চাই জৈব সার তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করতে।”

স্থানীয়রা বলেন, “একজন খামারির একাগ্রতা, নিষ্ঠা আর পরিকল্পনা কীভাবে একটি পুরো এলাকার ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার উদাহরণ আমিরুল।”


🔸 আপনার এলাকায় কি এমন সফল খামারির গল্প আছে?
🔸 আপনি কি খামার করতে আগ্রহী? শেয়ার করুন আপনার ভাবনা!

👇 মতামত দিন কমেন্টে
❤️ লাইক করুন
🔁 শেয়ার করুন
👥 ফলো করুন Agriculture TV পেজ

#SuccessStory #DairyFarming #AmirulIslam #Ishwardi #Pabna #LivestockBangladesh #AgricultureTV

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.