Header Ads

পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে বাজিমাত: নাটোরের ময়দান আলী এখন প্রান্তিক কৃষকদের অনুপ্রেরণা

 পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে বাজিমাত: নাটোরের ময়দান আলী এখন প্রান্তিক কৃষকদের অনুপ্রেরণা



মাত্র ৫ হাজার টাকা খরচে আয় ৩০ হাজার টাকারও বেশি। নাটোরের সিংড়ার আয়েশ গ্রামের কৃষক ময়দান আলী প্রমাণ করলেন—সঠিক পরামর্শ ও পরিকল্পনায় কৃষি হতে পারে সবচেয়ে লাভজনক পথ।

প্রতিবেদন
পরিবারের চাহিদা মেটাতে যেখানে অনেকে হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে নাটোরের সিংড়া উপজেলার আয়েশ গ্রামের এক প্রান্তিক কৃষক মাত্র ১৫ শতাংশ পরিত্যক্ত জমিতে চাষ করে ঘুরিয়ে দিয়েছেন নিজের ভাগ্যের চাকা। ময়দান আলী নামের এই কৃষক প্রথমবারের মতো হাজারী জাতের লাউ চাষ করে এখন এলাকার অন্য কৃষকদের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছেন।


বাড়ির সামনের দীর্ঘদিন অনাবাদী পড়ে থাকা ১৫ শতাংশ জমি একসময় ছিলো ব্যবহারহীন। এ বছর স্থানীয় কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার উৎসাহে এবং নিজ আগ্রহে তিনি সেই জমিতেই শুরু করেন লাউ চাষ। প্রথমবার চাষ হলেও তার হিসাব দেখে কেউই বলবে না এটা একজন নবীন চাষির কাজ।

ময়দান আলীর হিসাব বলছে, লাউ চাষে তার মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি লাউ বিক্রি করেছেন প্রায় ২০ হাজার টাকার এবং আশা করছেন আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন। অর্থাৎ তার প্রতি শতাংশে আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ হাজার টাকা, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ জাগিয়েছে।

সফলতা কেন, কীভাবে
এই লাউ জাতের নাম হাজারী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত, যা চারা রোপণের ৪৫ দিনের মাথায় ফল দেয় এবং ৬০–৭০ দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা যায়। দেখতে সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে রয়েছে প্রচুর চাহিদা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ময়দান আলীর সবজি বাগানের মাচায় ঝুলে রয়েছে শত শত সবুজ লম্বা লাউ। লাউগুলো দেখতে তাজা ও ঝকঝকে। ময়দান জানান, তিনি জৈব সার এবং সীমিত পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছেন। তবে বালাইনাশক বা কীটনাশক ব্যবহার করেননি। ফলে তার উৎপাদিত লাউ বিষমুক্ত, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব—যা খেতেও সুস্বাদু এবং বাজারে এর জন্য রয়েছে আলাদা কদর।

কৃষকের কণ্ঠে সাফল্যের গল্প
ময়দান আলী বলেন,
“জমিটা সারা বছর ফাঁকা পড়ে থাকত। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রথমবার লাউ চাষ শুরু করি। পরিশ্রম করলাম, সময় দিলাম। এখন দেখছি, খুব অল্প খরচে অনেক লাভ করা সম্ভব। আগেও ধান আর কচু চাষ করতাম, কিন্তু এই লাউ চাষ থেকে যে মুনাফা পাচ্ছি তা অভাবনীয়। মানুষ এখন এসে খেত দেখে, পরামর্শ চায়।”

কৃষি অফিস বলছে
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি অর্থবছরে সিংড়া উপজেলায় বর্ষাকালীন খরিপ-২ মৌসুমে ৩১৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, এর মধ্যে ১২ হেক্টরে লাউ। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২৫ টন লাউ উৎপাদন হয়েছে।
তিনি বলেন,
“কৃষকরা এখন বিষমুক্ত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আমরা তাদের জৈব পদ্ধতির প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। ময়দান আলীর মতো প্রান্তিক কৃষকদের সাফল্য অন্যদের উৎসাহিত করবে।”

পাঠকের প্রতি আহ্বান
আপনিও কি লাউ কিংবা অন্য কোনো সবজির চাষে সফল হয়েছেন? নাকি কারো সাফল্যের গল্প জানেন, যা অন্যদের জানানো উচিত? তাহলে Agriculture TV-তে পাঠিয়ে দিন সেই গল্প। হয়তো আপনার পাঠানো খবরই বদলে দিতে পারে আরেকজন কৃষকের ভবিষ্যৎ।

লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন
ময়দান আলীর এই সাফল্য কেবল তার একার নয়—এটি সবার জন্য শিক্ষা। পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে লাইক দিন, অন্য কৃষকদের উৎসাহ দিতে শেয়ার করুন, আর নিচে কমেন্ট করে বলুন—আপনার মতামত কী।


#লাউচাষ
#সফলকৃষক
#বিষমুক্তসবজি
#কৃষিরগল্প
#AgricultureTV

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.