Header Ads

গাভীর দুধ দোহনের সঠিক সময় ও নিয়ম: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

 

গাভীর দুধ দোহনের সঠিক সময় ও নিয়ম: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি


দুগ্ধ খামারের লাভজনকতা অনেকাংশেই নির্ভর করে গাভীর দুধ দোহনের সঠিক পদ্ধতির ওপর। দুধ দোহনের ভুল নিয়ম কেবল দুধের উৎপাদনই কমায় না, বরং গাভীর স্বাস্থ্যেরও মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই বৈজ্ঞানিক উপায়ে দুধ দোহনের সঠিক সময় ও নিয়ম অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।





১. দুধ দোহনের সঠিক সময়

গাভীর শরীর থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ দুধ পেতে হলে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা আবশ্যক। সাধারণত, সকাল এবং সন্ধ্যা - দিনে দুইবার দুধ দোহন করা সবচেয়ে ভালো। দুটি দোহনের মধ্যে ১২ ঘণ্টার ব্যবধান থাকলে দুধের উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। প্রতিদিন একই সময়ে ও একই স্থানে দুধ দোহন করলে গাভীর শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ হরমোন নিঃসরণ হয়, যা দুধ দ্রুত নামাতে সাহায্য করে।

২. দোহনের পূর্ব প্রস্তুতি

সঠিকভাবে দুধ দোহনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: দোহনের আগে গাভীর ওলান, বাঁট, লেজ এবং পেছনের অংশ পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। দুধ দোহনকারীকেও হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং নখ ছোট রাখতে হবে।

  • বাছুরের উপস্থিতি: দোহনের ঠিক আগে বাছুরকে কিছুক্ষণের জন্য মায়ের কাছে ছেড়ে দিলে গাভী দুধ দিতে উৎসাহিত হয়। এরপর বাছুরকে সরিয়ে নিয়ে দুধ দোহনের কাজ শুরু করতে হবে।

৩. দোহনের সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি

দুধ দোহনের কয়েকটি পদ্ধতি থাকলেও পূর্ণ হস্ত পদ্ধতি সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকরী।

  • পূর্ণ হস্ত পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে বুড়ো আঙুল এবং তর্জনীর সাহায্যে বাঁটের গোড়া শক্ত করে চেপে ধরতে হয়, যাতে দুধ ওলানে ফিরে যেতে না পারে। এরপর একে একে অন্য আঙুলগুলো চাপ দিয়ে দুধ বের করতে হবে। এই পদ্ধতিতে বাঁটের কোনো ক্ষতি হয় না।

  • দ্রুততা: অক্সিটোসিন হরমোন মাত্র ৮ মিনিটের জন্য কাজ করে। তাই এই সময়ের মধ্যে দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে দুধ দোহন শেষ করা উচিত।

  • শেষ পর্যন্ত দোহন: ওলানে সামান্য দুধ থাকলেও তা টেনে বের করতে হবে। কারণ শেষ ভাগে যে দুধ থাকে তাতে ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।

৪. দোহনের পর করণীয়

  • বাঁটের পরিচর্যা: দুধ দোহনের পর বাঁটের মুখ খোলা থাকে, যা জীবাণু সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রতিটি দোহনের পর টিট ডিপ (teat dip) বা জীবাণুনাশক দ্রবণে বাঁট ডুবিয়ে দিতে হবে।

  • গাভীকে দাঁড় করানো: দোহনের পর গাভীকে অন্তত ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে রাখতে হবে। এই সময়ে তাকে কিছু খাদ্য খেতে দিলে সে দাঁড়িয়ে থাকবে। এতে বাঁটের মুখ পুনরায় বন্ধ হতে পারে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।


এই তথ্যটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিন এবং আপনার মতামত কমেন্টে জানান। নিয়মিত নতুন তথ্য পেতে আমাদের পেজটি অনুসরণ করতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ: আমাদের পোস্টের লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার যদি কোনো বিষয়ে নতুন লেখা প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের ইনবক্সে জানান।


আলমগীর হোসেন শিশির, মিডিয়া কর্মী, উদ্যোক্তা, পরিচালক Agriculture TV

#দুধদোহন #গাভী পালন #আধুনিক খামার #Milking #CowFarming #DairyFarm

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.