Header Ads

কেমন ভাবে প্রতারিত হলে, আপনাদের ঘুম ভাঙবে? Agriculture TV

 কেমন ভাবে প্রতারিত হলে, আপনাদের ঘুম ভাঙবে?

আমি ২০০৭ সাল থেকে জৈব সার তৈরি করি।২০১৩ সালে নতুন করে তৈরি করি কেঁচো সার। সরকার তখন ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে।ইতিমধ্যে তখন সাতক্ষীরা থেকে পাবনা পযন্ত আমি অনেক কেঁচো সেল করি এবং সার্বিক সহযোগিতা করি একজন উদ্যোগত্তা যেন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার বিনামূল্যে কেঁচো সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ শুরু করে। দেশের বড় বৃহৎ একটি কোম্পানি খামের বিনিময়ে সরকার থেকে কাজটি নিয়ে নেয়,তাদের বিক্রি বেশি করার জন্য তারা আইনি ব্যবস্হার মাধ্যমে আমার দেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে হানা দিতে শুরু করে। তারা আমার উদ্যোক্তাদের কাছে জানতে চায়,আপনাদের ট্রড লাইসেন্স, আয়কর কাগজ,খামার বাড়ির অনুমোদন, ল্যাব টেস্ট, বিসিক পেপার আছে কিনা?

অসহায় ব্যাক্তি গুলো উক্ত কর্মকর্তাদের চোখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো, সঠিক জবাব না দিতে পারার কারণে অনেক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়,অসহায় আমি কিছুই করতে পারিনি।
একজন ফোন দিয়ে জানতে চাইলো,স্যার খামার বাড়ি কি? ওখানে কারা থাকে? ওটা কি গোলপাতার ছাউনি দেওয়া কোন ঘর?
আমার কাছে কোন উত্তর ছিল না, তবে বলেছিলাম, না ভাই! ওগুলো ঢাকা শহরের অনেক বড় দালান কোঠা, এসি রুম।ওখানে যারা বসে তারা বিসিএস ক্যাডার,অনেক শিক্ষিত।তারা ওখানে বসে, দামি গাড়িতে চড়ে, তারা চিকন চালের ভাত খায়,অসুস্থ হলে সিঙ্গাপুরে যেয়ে চিকিৎসা নেয়,তারা কেউ কেউ ছোট বেলায় গাওয়া ঘী দিয়ে ভাত খেয়েছে,আবার কেউ না খেয়ে, টিউশনি করে, কস্ট করে পড়াশোনা করেছে। এখন তারা অনেক উঁচু দামের মানুষ। আমাদের করের টাকায় বেতন নিয়ে আবার আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে দেয়।
ফোনের ওপাশ থেকে হাউমাউ কান্না শুনতে আমার কথার ঘোর কেটে যায়। আমাকে বলে স্যার অল্প কিছু টাকা আর অনেক পরিশ্রম করে কেঁচো সার তৈরি করি আইনের হাতকড়া পরিয়ে ওরা যে আমাদের বেকার করে দিল!
এখন বৌ বাচ্চা নিয়ে কিভাবে চলবো?
এমন অনেক ঘটনার সাক্ষী আমি।দিন গড়াতে গড়াতে ২০২০ সাল চলে এলো,আমি তখনও এক রকম বেকার, অনলাইনে ছাদ বাগানের গ্রুপ গুলোতে সেল পোস্ট দেওয়া শুরু করি,আবার সেল শুরু, কিছু নতুন উদ্যোক্তা আবার তৈরি করলাম,ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কিছু হেভি হেভি অনলাইন স্টার ব্যাক্তিরা যোগাযোগ করে আমন্ত্রণ জানালেন যে, তারা কেঁচো সার তৈরি কারকদের নিয়ে একটা অ্যাসোসিয়েশন করবেন, আমি স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম, তাদের মাসিক মিটিং ও চাঁদা দিতে শুরু করি,বিভিন্ন জেলায়ও সফর করি।আস্তে আস্তে থলের বেড়াল বেরিয়ে এলো,জানলাম এরা হলো সেই কোম্পানির দালাল,যাদের কথা আগেই বলেছিলাম, যারা ফ্রী কেঁচো সার বিতরণ করতো সরকার থেকে টাকা নিয়ে আর হাজার উদ্যোক্তার পেটে লাথি মারতো।আমি প্রতিবাদ করি।দালালরা আমাকে বোঝাতে শুরু করলো,রনি ভাই! আমরা ক্ষুদ্র লোক, ওরা বড় পুঁজিপতি, ওদের সাথে যুদ্ধ করা বোকামি, আমরা সরাসরি সার বিক্রি না করে, ওদের কেই সাপ্লাই দেই,আলোচনার স্বার্থে ওরা বললো, আমাদের ৫.৬০ টাকা কেজি দর দিবে, আই এ্যাম তো অবাক 🙄
যেখানে উৎপাদন খরচ ১২ টাকা + সেখানে এই দরে কিভাবে দিব?
তারা বোঝালো জৈব সারের ভেতর ২০% কাল ছাই দিতে,এতে ওজন হালকা হবে, ২০% কালো মাটি মেশাতে এতে করে সার ভারি হবে, খরচ কমবে,তাতে করে ৪ টাকায় টোটাল কমপ্লিট,লাভ থাকবে কেজি প্রতি ১.৬০ পয়সা।জানতে চাইলাম এমন কোয়ালিটির সার জমিতে দিলে দেশ,মাটি, কৃষক তথা বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ওরা শুনে খিলখিল করে হেঁসে বললো,আসলে বিষয়টা তাই ভাই, মানুষ তো বোকা,এই চালাকিই করতে হবে। বুঝতে বাকি রইল না,এরা আসলে দেশের শত্রু।বাংলাদেশে একমাত্র মনিরামপুর উপজেলার গাজী এনামুল হক সাহেব বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের মত অনুষ্ঠান করে, আমার প্রচার ও প্রসারে সহযোগিতা করেছিলেন। বর্তমান কেশবপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন আমার পাশে আছেন ।অনেক লেখক ও সাংবাদিকের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করে কোন ফল পাইনি।তবুও সংগ্রামে লেগে আছি লেগে থাকবো স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত।
- কাজী ইশতিয়াক আহমেদ রনি
কাপাষহাটি অভয়নগর যশোর







Facebook Post  https://www.facebook.com/share/p/19YqocfK2i/

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.