Header Ads

চুয়াডাঙ্গায় স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক সাফল্য: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

 

চুয়াডাঙ্গায় স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক সাফল্য: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

বিদেশি ফল স্ট্রবেরি এখন আর শুধু আমদানিনির্ভর নয়—দেশের মাটিতেই সফলভাবে বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ এই পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অপ্রচলিত, উচ্চমূল্যের এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল চাষ করে তিনি শুধু লাভবানই হননি, বরং স্থানীয় কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সজল আহমেদ ৬ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। তিনি মোট ৪০ হাজার চারা রোপণ করেন। জানুয়ারির শুরুতেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যে ফল ধরতে থাকে। ফল সংগ্রহ চলছে জানুয়ারির শেষ ভাগ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত। প্রতিদিন তার খামার থেকে ২৫ থেকে ৩৫ কেজি পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা হচ্ছে।


এ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে চাষে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে, ৫০ হাজার গাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার কেজি ফল উৎপাদন হবে। বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত হওয়ায় লাভজনক বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে এই উদ্যোগ। ঢাকা ও খুলনার বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে এসব তাজা স্ট্রবেরি।

স্ট্রবেরি চাষের সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সহজ পরিচর্যা, কম খরচ, এবং উচ্চ বাজারদর। সজল আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি এবার চারটি জাতের স্ট্রবেরি চাষ করেছেন এবং সব জাতই আশানুরূপ ফলন দিয়েছে। গাছগুলো ফুল ও ফলে ভরপুর। তার মতে, অন্য ফসলের তুলনায় স্ট্রবেরি চাষ অনেক সহজ, এবং নতুন চাষিরাও চাইলে এতে যুক্ত হতে পারে।

স্থানীয় জনগণ ও কৃষিবিভাগ মনে করছে, দেশের আবহাওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ সম্ভব হওয়ায় এ ফলের আমদানিনির্ভরতা কমবে। বাজার তৈরি করতে পারলে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই চাষ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, কয়েকজন কৃষক ইতিমধ্যেই উচ্চমূল্যের বিদেশি ফল চাষ শুরু করেছেন এবং কৃষিবিভাগ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাজার সম্প্রসারণ।

চুয়াডাঙ্গায় স্ট্রবেরির এই সাফল্য দেশের কৃষিখাতে বৈচিত্র্য ও নতুন আয়ের সুযোগ এনে দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এই ফল বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.