Header Ads

পোল্ট্রি, মৎস্য ও ডেইরি ফিড আমদানিতে শুল্ক ছাড়: উৎপাদন ব্যয়ে বড় স্বস্তি

 

পোল্ট্রি, মৎস্য ও ডেইরি ফিড আমদানিতে শুল্ক ছাড়: উৎপাদন ব্যয়ে বড় স্বস্তি

ঢাকা, ২ জুন:
পোল্ট্রি, মৎস্য ও ডেইরি খাতের ফিড শিল্পকে সহায়তা দিতে ফিড প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সুবিধা আজ (২ জুন) থেকে কার্যকর হয়ে ৩০ জুন ২০৩০ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ২৯ মে জারি হওয়া এসআরও নং-২০৩-আইন/২০২৫/২৫/কাস্টমস-এ এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ২০২০ সালের ৩ জুন জারি হওয়া পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।

সরকারি তথ্যমতে, দেশের ফিড শিল্প সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। শিল্পটি অনেকাংশে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে, শুল্ক ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত ফিড উৎপাদনের খরচ কমিয়ে শিল্পকে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


একশ’টির বেশি কাঁচামালে শুল্ক ছাড়

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত সয়াবিন মিল, গমের ভূসি, ফিশ মিল, ফিস ওয়েল, এনিমেল ফ্যাট, প্রোবায়োটিক, অ্যামিনো অ্যাসিড, হরমোন, প্রিমিক্স, এনজাইম, মিট অ্যান্ড বোন মিল (MBM), প্রোটিন কনসেনট্রেট, ফিড গ্রেড অ্যাসিড এবং বিভিন্ন গন্ধ ও রঙের উপাদানসহ অন্তত একশ’রও বেশি কাঁচামালে কাস্টমস ডিউটি, মূসক, সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এই উপাদানগুলো প্রাণিসম্পদ ও জলজসম্পদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রস্তুতের জন্য অপরিহার্য বলে জানানো হয়েছে।


কেবল নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানই পাবে এই সুবিধা

শুল্ক ছাড়ের এই সুযোগ সব আমদানিকারকের জন্য প্রযোজ্য নয়। কেবল সেই প্রতিষ্ঠানগুলোই এই সুবিধা নিতে পারবে, যারা—

  • প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অথবা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকাভুক্ত, ক্যাটাগরি-১ বা ২ লাইসেন্সধারী,

  • অথবা সংশ্লিষ্ট খাতের স্বীকৃত সংগঠন যেমন FIAB, BAFIITA, SHAB, AHCAB, BAPCA ইত্যাদির সদস্য।

এছাড়া, আমদানির আগে পূর্বানুমোদনপত্র গ্রহণ, সুনির্দিষ্ট ফরম্যাটে চালানভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর তা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশেষভাবে Meat and Bone Meal (MBM), Fish MealProtein Concentrate–এর মতো উপাদানের জন্য পৃথক অনুমোদনপত্র লাগবে। তদুপরি, প্রতিটি আমদানিকৃত পণ্যে লেবেলিং থাকতে হবে: “শুধুমাত্র প্রাণিসম্পদ, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খাতে ব্যবহারের জন্য”



নিয়মিত হিসেব ও তদারকি বাধ্যতামূলক

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতি ছয় মাস অন্তর আমদানিকারককে একটি বিস্তারিত হিসেব জমা দিতে হবে—যেখানে পণ্যের পরিমাণ, উৎস, ব্যবহার ও সরবরাহের বিবরণ থাকবে। প্রয়োজনে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করাতে পারবে এবং অসঙ্গতি ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পুরো কার্যক্রম কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।


শিল্পে স্থিতিশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব

পোল্ট্রি, মৎস্য ও ডেইরি খাতে কাঁচামালের আন্তর্জাতিক দামে অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সরবরাহ চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক ছাড়কে ‘একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, এই নীতি একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদনে নিরাপত্তা ও মান বজায় রাখতে সহায়ক, তেমনি ভোক্তা পর্যায়ে ডিম, দুধ ও মাছের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে।

উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগ স্থিতিশীলতা এবং কাঁচামাল সরবরাহে স্বাচ্ছন্দ্য—সব মিলিয়ে এই শুল্ক ছাড় ব্যবস্থাকে ফিড শিল্পের জন্য একটি সম্ভাবনাময় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.