Header Ads

গাভীর গর্ভকালীন সময়ে বিশেষ যত্ন: সহজ প্রসব ও সুস্থ বাছুরের জন্য যা করণীয়!

 


গাভীর গর্ভকালীন সময়ে বিশেষ যত্ন: সহজ প্রসব ও সুস্থ বাছুরের জন্য যা করণীয়!


গাভীর গর্ভকালীন সময়, বিশেষ করে শেষ মাসগুলো, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক যত্ন ও পুষ্টি নিশ্চিত করলে প্রসব সহজ হয় এবং মা ও বাছুর উভয়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একজন অভিজ্ঞ খামারির পরীক্ষিত পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যায় যেসব বিষয় মেনে চলা উচিত, তার বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো:

১. প্রোটিন সমৃদ্ধ কাঁচা ঘাস খাওয়ানো: গাভীর গর্ভের সময় সাত মাসের বেশি হলে প্রোটিনযুক্ত কাঁচা ঘাস বেশি করে খাওয়াতে হবে। যেকোনো ঘাস হলেই চলবে না, ঘাসের ক্রুড প্রোটিন, মিনারেলস এবং হার্বাল উপাদান প্রসবের জন্য সহায়ক। এটি গাভীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং প্রসবের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে।

২. শেষ দুই মাসে দানাদার খাদ্য ও পুষ্টির মান: গর্ভকালীন শেষের দুই মাসে গাভীর দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে, কারণ এ সময় বাছুরের বৃদ্ধির কারণে গাভীর পেটে খাদ্যের জন্য জায়গা কমে যায়। তবে যে খাবারই দেওয়া হোক না কেন, তা যেন যথেষ্ট পুষ্টিকর হয়। ছোলা, মসুর ডাল, সয়াবিন এবং সরিষার খৈল এই সময়ে উপকারী। অনেকে প্রিমাফ্যাট, হাই ফ্যাট বা পাম অয়েল ফ্যাট খাইয়েও ভালো ফল পেয়েছেন।

৩. মিনারেলস ও লবণের সঠিক ব্যবহার: এ সময়ে গাভীর খাদ্যে মিনারেলসের পরিমাণ বাড়াতে হবে। সাধারণ লবণ (NaCl) একদম কমিয়ে দিতে হবে বা বন্ধ রাখতে হবে। সাধারণ লবণের পরিমাণ বেশি হলে ওলানে ও নাভিতে পানি আসতে পারে এবং যেকোনো সময় পেটফাঁপা (Acodosis) হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৪. প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সম্পূরক: গর্ভকালীন শেষ সময়ে যেসব উপাদান গাভীর জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার, সেগুলো হলো: ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফেট, সেলেনিয়াম, কোবাল্ট এবং ভিটামিন AD3E। এই পয়েন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




  • যদি এই উপাদানগুলোর প্রাকৃতিক উৎস সম্পর্কে আপনার পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকে, তবে বাজার থেকে এসব উপাদানের পরিপূরক ঔষধ বা খাবার সংগ্রহ করে খাওয়ানো যেতে পারে। যেমন:
    • DCP Powder (ফসফেট ও ক্যালসিয়ামের জন্য)
    • ক্যালসিয়াম সিরাপ
    • Renasol Vitamin AD3E Syrup
    • Andox D
    • অ্যামাইনোভিট প্লাস সিরাপ
    • আয়রন সিরাপ
  • এই ঔষধগুলো কী পরিমাণে খাওয়াবেন, তা জানার জন্য উপজেলা ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
  • প্রসবের ২১ দিন আগে থেকে ক্যালসিয়াম সিরাপ বন্ধ করে দিতে হবে বা একদম কমিয়ে দিতে হবে। এই সময়ে তিন দিন পর পর সামান্য সিরাপ বা ৫০ গ্রাম ডিসিপি পাউডার দেওয়া যেতে পারে। ডিবি পাউডার ও জিঙ্ক সিরাপ এই সময়েও চলবে। তবে প্রসবের পর জিঙ্ক সিরাপ বন্ধ রাখতে হবে।

৫. প্রসবের ২১ দিন আগে থেকে বিশেষ পাউডার: প্রসবের ২১ দিন আগে থেকে DCAD Minus নামক পাউডার সকাল-বিকাল খাওয়াতে হবে। যদি এটি না পাওয়া যায়, তবে এর পরিবর্তে আয়ুমিন প্লাস লবণ, অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার, লেবুর রস, ম্যাগনেসিয়াম ট্যাবলেট বা এপসম লবণ উপকারী। এই সময়ে NaCl লবণ বন্ধ রাখুন, কারণ DCAD পাউডারে সব দরকারি উপাদান থাকে।

৬. পরিষ্কার ও আরামদায়ক বাসস্থান: গাভীর শোয়ার জায়গা নরম, আরামদায়ক (যেমন - মেট/বালু) হতে হবে। এটি জীবাণুমুক্ত, মশামাছি মুক্ত এবং ১০০% পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। এজন্য GPC8, FAM 30, ব্লিচিং পাউডার, পটাশ, ফিটকিরি, ফিনাইল বা গুঁড়া সাবানের মতো Disinfectant Chemical ব্যবহার করুন। গর্ভকালীন সময়ে গাভী দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা শুয়ে থাকবে। যদি এর চেয়ে কম শুয়ে থাকে, তবে চিন্তিত হোন এবং কারণ বা গাভীর অসুবিধা খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করুন। এই সময়ে গাভীকে সারাক্ষণ বেঁধে না রেখে মুক্তভাবে চলাচলের সুযোগ দিলে সর্বাধিক উপকার পাওয়া যায়।

৭. প্রাকৃতিক খাবার ও প্রসব জটিলতা হ্রাস: প্রতিদিন গাভীকে কিছু পাকা কলা খেতে দিতে পারেন। এছাড়াও, কিছু লাল শাক, পুইশাক, কলমিশাক, অঙ্কুরিত ছোলা বুট, লেবু, সজিনা পাতা, কাঁঠাল পাতা, ইপিল ইপিল এবং মিষ্টি কুমড়া খাওয়াতে হবে। এই প্রাকৃতিক খাবারগুলো প্রসব জটিলতা সহজে দূর করতে সাহায্য করে।

এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ, কোনো প্রকার অক্সিটোনিন হরমোন ব্যবহার না করেই গাভীর গর্ভফুল সহজে বের হবে এবং বাছুর প্রসবে কোনো জটিলতা হবে না। এমনও হতে পারে যে, কোনো একদিন সকালে গিয়ে দেখবেন গাভীর পাশে বাছুর রাতে ভূমিষ্ঠ হয়ে নিজে নিজেই দুধ খাচ্ছে। এটি একজন অভিজ্ঞ খামারির পরীক্ষিত পরামর্শ, যা নিজের গরুর উপর পরীক্ষা না করে কাউকে দেওয়া হয় না। আপনার এবং আপনার গাভীর সুস্থতাই আমাদের কাম্য।


#গাভীরযত্ন #গর্ভকালীনপরিচর্যা #পশুপালন #দুগ্ধখামার #সুষমখাদ্য #ভেটেরিনারিকেয়ার #সুস্থবাছুর


এই বিষয়ে আপনাদের কী কী অভিজ্ঞতা বা অভিমত আছে, তা আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

আমাদের Agriculture TV ফেসবুক পেজটি লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে আমাদের সাথেই থাকুন।

আলমগীর হোসেন শিশির, কৃষি উদ্যোক্তা। পরিচালক : Agriculture TV

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.